প্রতিধ্বনি TV
     

প্রতিধ্বনি টেলিভিশনে দেশের সকল জেলা উপজেলা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। উদ্যোমী পরিশ্রমী সৎ নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক, যিনি সৃজনশীল মনন ও মানসে লালিত এবং বাঙালি জাতিসত্তা ও জাতীয় চেতনায় সদাজাগ্রত এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ ও প্রেরণায় উজ্জীবিত, এমন প্রগতিশীল ভাব ও ভাবনায় দীক্ষিত সংবাদকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীদের সর্বনিম্ন এক বছরের অভিজ্ঞতা ও কর্মষ্ঠ হতে হবে। যে কোনো বিষয়ে নূন্যতম স্নাতক অথবা স্নাতক অধ্যয়নরত হতে হবে। ইংরেজি সাংবাদিকতা বা গণযোগাযোগে স্নাতক অথবা অধ্যয়নরত প্রার্থীরা অধিকতর গুরুত্ব পাবেন। আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন। যোগাযোগঃ ০১৮৩৭৩৩৮০৬০ (হটলাইন)

চট্রগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্হাপনা পরিচালক একে এম ফয়েজুল্লার কাছে নগরীর পানি সংকঠ, অনিয়ম, এবং লাইনের সংযোগে বিভিন্ন দুর্নিতীর অভিযোগ তুলে ধরেন নাগরিক উদ্যোগের আহবায়ক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন।

| 28-04-2019 | 107 পরিদর্শন
  1. গমোস্তাফিজুর রহমান-

    নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করন এবং তা থেকে পরিত্রানের লক্ষ্যে কর্মপন্থা নির্ধারনের জন্য জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন আজ ২৮ এপ্রিল রবিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ’র সাথে তাঁর দফতরে মতবিনিময় করেন।

ওয়াসার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে জনাব সুজন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধের ফলে চট্টগ্রাম ওয়াসা বাস্তবিক অর্থেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে চলেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পুরো চট্টগ্রামে সুপেয় পানি সরবরাহ এবং স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। নতুন নতুন প্রকল্প বরাদ্ধের ফলে পুরো নগরী ওয়াসার উন্নয়ন কর্মকান্ডের উৎসবে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডে। নগরবাসীর পানির চাহিদাকে মাথায় রেখে পানির উৎস বৃদ্ধি এবং সঞ্চালন লাইনের কাজও চলছে পুরোদমে। এতোসব উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলে ওয়াসা যখন পুর্বের দূর্নাম ঘুঁচিয়ে নগরবাসীর আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে চলেছে ঠিক তখনই হঠাৎ করে পুরো নগরজুড়ে বিশুদ্ধ পনির হাহাকার শুরু হয়েছে। যেখানে সরকার সুপেয় পানির জন্য হাজার কোটি টাকা খরচ করছে সেখানে নগরবাসী কি কারণে সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয়। ওয়াসার রাস্তা খুড়াখুড়ি নগরবাসীর যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এখনো পর্যন্ত ওয়াসার সঞ্চালন লাইন নাই। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি সরবরাহ নাই কিন্তু প্রতিনিয়ত ভুতুড়ে বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে গ্রাহককে। একদিকে ওয়াসার পানি নাই অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে ওয়াসার এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীকে ম্যানেজ করে অসাধু ব্যবসায়ীগণ গ্যালনে ভরে প্রতিনিয়ত ওয়াসার পানি বিক্রির ব্যবসা করছে। বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানির সাথে কালো নোংরা দূর্গন্ধযুক্ত পানি এসে গ্রাহকের পানির ট্যাংকে জমা হচ্ছে। তাছাড়া দেখা যাচ্ছে যে, গ্রাহকের পানির মিটার নষ্ট হলে ঘুষ ছাড়া নতুন মিটার সংযোজন করা হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, রমজান মাস আসন্ন। রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমান যাতে পানির সমস্যায় ইবাগত বন্দেগীতে বাঁধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করেন। এছাড়া যে সব এলাকায় ওয়াসার সঞ্চালন লাইন নাই সে সব এলাকায় রমজান মাসে ওয়াসার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুপেয় পানি সরবরাহের অনুরোধ জানান। জনাব সুজন ওয়াসার অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী কেউ ঘাপটি মেরে বসে জনগনকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে কি না সেদিকে সতর্ক দৃষ্ঠি রাখার জন্য ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি আহবান জানান। তিনি বিদ্যুৎ এবং গ্যাস বিভাগের মতো ওয়াসার পানির বিলও যাতে মোবাইলে প্রদান করা যায় সে ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান এবং গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে একটি হটলাইন নাম্বার চালুর পরামর্শ দেন। জনাব সুজন দ্রæততার সাথে অসমাপ্ত উন্নয়ন কর্মকান্ডের কাজ সমাপ্ত করে সরকারের উন্নয়নের সুফল জনগনের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সহিত দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ ধৈর্য্য সহকারে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেন। নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে ওয়াসা ভবনে মতবিনিময় করতে আসায় তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক অর্থ বরাদ্ধের কারণেই নগরবাসীর সুপেয় পানির নিশ্চিত করতে কাজ করছে ওয়াসা। ইতিমধ্যে অনেকগুলো প্রকল্প চলমান রয়েছে। আমাদের প্রকৌশলীগণ নতুন লাইন স্থাপনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবে গরমে পানির ব্যবহার বেড়ে যায়। এ সময় সংকট তৈরি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন এ সংকট নিরসনে কাজ চলছে। গ্রাহকের পাইপলাইন লিকেজ হয়ে গেলে সেখানে ময়লা যুক্ত হয়ে পানি দুর্গন্ধ হচ্ছে। ওয়াসার লাইন লিকেজ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তারপরও দুর্গন্ধযুক্ত পানি পেলে সাথে সাথে ওয়াসার কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি। এছাড়া ওয়াসার পানি গ্যালনে ভরে বিক্রির ব্যবসায় ওয়াসার কোন ধরনের কর্মকর্তা কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন ২০২১ সালে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প-২ চালু হবে। এরপর চট্টগ্রামে আর পানি সংকট থাকবে না। শহরের আশপাশের কিছু জায়গায় পানি সংকট রয়েছে। ওয়াসার যে প্রকল্পগুলো চলমান সেগুলোর কাজ শেষ হলে পানির সংকট আর থাকবে না। রমজানে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে জনাব ফজলুল্লাহ বলেন, রোজায় পানি সরবরাহ সচল রাখতে সব জায়গায় জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেনারেটরগুলো সচল রাখা হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ না থাকলেও পানি সরবরাহ ঠিক থাকে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে ভ্রাম্যমাণ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান। ওয়াসার গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনে অচিরেই একটি হট লাইন চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি গ্রাহকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৬, ৩৭ ও ৩৮নং ওয়ার্ডের যে সকল এলাকায় ওয়াসার সঞ্চালন লাইন নেই সে সকল এলাকায় ওয়াসার সঞ্চালন লাইন স্থাপন করার নির্দেশ প্রদান করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসার সুপারিনটেনডেন্ট প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম, আরিফুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ হাজী মোঃ ইলিয়াছ, এস.এম.আবু তাহের, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী হোসেন কোম্পানী, আব্দুল আজিম, আব্দুর রহমান মিয়া, হাবিবুর রহমান, কুতুব উদ্দিন, এজাহারুল হক, নিজাম উদ্দিন, ছালেহ আহমদ জঙ্গী, নুরুল কবির, এ এস এম জাহিদ হোসেন, সমীর মহাজন লিটন, মোঃ বেলাল,সাইফুল্লাহ